টাকা-পয়সা এবং বন্ধু-বান্ধবের গল্প

- নাজমুল আহসান

গল্প-১
এক বন্ধু অনেকদিন পর ফোন দিয়েছে। বছরখানেক পর। হঠাৎ কী মনে করে ফোন দিয়েছে, এটা জিজ্ঞেস করাতে সে বেশ ভাবগাম্ভীর্য নিয়ে বলল- ‘আমি তো আর তোর মতো না। বন্ধুদের কথা ভুলে যাই না।’
আমি মেনে নিলাম। যেহেতু ফোনটা সে-ই দিয়েছে, এরকম দাবী সে করতেই পারে।

মিনিটখানেক কথা বলার পর বন্ধু তার খোলস থেকে বেরিয়ে এলো, ‘দোস্ত, কিছু টাকা ধার দিতে পারবি?’

কীভাবে যেন পরিচিত মহলে রটে গেছে, আমার অনেক টাকা। আমি সকাল-বিকাল টাকার উপর গড়াগড়ি খাই। যেহেতু আমার জীবন কীভাবে চলে, সে ব্যাপারে এইসব বন্ধুদের স্পষ্ট ধারণা নেই; সেহেতু ‘আমার কাছে টাকা নেই’ বললে তারা বিশ্বাস করে না। এমন প্রায়ই হয়, কেউ ধার চাইলে আমি বন্ধুর বিশ্বাস রক্ষার্থে অন্যের কাছ থেকে ধার নিয়ে তাকে দেই।

তো, সেই সূত্র থেকে আমি এই বন্ধুকেও ধার দিতে সম্মত হলাম। তখন বেশ রাত, আমি জিজ্ঞেস করলাম ‘টাকা কীভাবে দেব?’ সে বিকাশ দেখিয়ে দিল। আমি তাকে রাতেই বিকাশে টাকা পাঠিয়ে দিলাম।

এতো রাতে টাকা চেয়েছে মানে জরুরী কিছুই হবে, এটা ভেবে আমি বিকাশের চার্জের টাকাও দিয়ে দিলাম। যাঁরা জানেন না, তাঁদের জ্ঞাতার্থে বলি- প্রতি ১ হাজার টাকায় বিকাশকে চার্জ দিতে হয় ১৮.৫০ টাকা। ধরা যাক, বন্ধু N পরিমান টাকা চেয়েছে, সুতরাং আমি তাকে পাঠালাম N + ( N x 1.85%) এবং আমার একাউন্ট থেকে পাঠাতে খরচ হল ৫ টাকা। অর্থাৎ আমার পকেট থেকে গেল N + ( N x 1.85% ) + 5 টাকা।

এবার যথারীতি সে উধাও হয়ে গেল। মাস দুয়েক চেষ্টা-তদ্বির করে টাকা নেওয়ার ব্যবস্থা করা গেল। বন্ধু আমাকে পাঠাল N পরিমাণ টাকা! এই টাকা থেকে বিকাশের চার্জ দিয়ে আমি হাতে পেলাম N x 0.98 টাকা (প্রায়)।

এবার আপনাদের জন্যে প্রশ্ন-
আমার লোকসানের পরিমাণ যদি (N + ( N x 1.85% ) + 5 ) – ( N x 0.98 ) ) টাকা হয়, তাহলে বন্ধুর ছোটলোকির পরিমাণ কত?

গল্প-২
আরেক বন্ধু হঠাৎ একদিন উদয় হল। আমার ভার্সিটির ক্লাসমেট ছিল। তার একটা জিনিস দরকার। বন্ধুর দুর্ভাগ্য, যেই জিনিসটা আমার কাছে ছিল না। খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, আমার অন্য এক বন্ধুর কাছে আছে। সে বিক্রি করে। যেহেতু এদের দুজনের মধ্যে চেনাশোনা নেই, আমি সাহায্যকারীর ভূমিকায় গিয়ে পণ্যটা এই বন্ধুর কাছে পৌঁছে দিলাম। ধরুন, সেই পন্যের দাম 3N টাকা। আমি বিক্রেতা বন্ধুর বিকাশ নম্বর ক্রেতা বন্ধুকে দিলাম। সে জানাল পরদিন সকালেই টাকা পাঠিয়ে দেবে।

দিন কেটে যেতে লাগল। বিক্রেতা বন্ধু আমাকে খোঁচা দেয়, আমি ক্রেতা বন্ধুকে খোঁচা দেই। জানা গেল- ক্রেতা বন্ধু কয়েকদিন ধরে খুব অসুস্থ, সে ছাড়া বাসায় আর কেউ নেই। সে এতোটাই অসুস্থ যে বাসার নিচেও নামতে পারে না। সে কী খায়, খাবারটা কীভাবে আসে সেটা জিজ্ঞেস করে আমি বন্ধুকে বিপদে ফেললাম না।

আরও দিন কেটে গেল। বন্ধুকে একদিন ফেইসবুকে জিজ্ঞেস করলাম সে টাকাটা পাঠিয়েছে কিনা। সে জানাল, বিকাশে খুব নেটওয়ার্কের সমস্যা, পাঠাতে পারছে না। টাকা তার কাছেই আছে। আমি দেখলাম আমার বিকাশ দিব্যি কাজ করছে।

যা-ই হোক, শেষ পর্যন্ত আমার সেই ক্রেতা বন্ধু বিক্রেতা বন্ধুকে 2N পরিমাণ টাকা পাঠিয়েছিল। আর ভুলটা যেহেতু আমার আর ক্রেতা বন্ধুকে ফোনে কিংবা ফেইসবুকে নাগাল পাওয়া যায় না, চুপচাপ নিজের পকেট থেকে বিক্রেতা বন্ধুকে বাকি N পরিমাণ টাকা দিয়ে দিলাম।

গল্প-৩
বন্ধু টাকা ধার চেয়েছে। দিয়েছি। আমি চাইতে গেলে সে উল্টা ঝাড়ি দেয়, আমি নাকি খুব ছোটলোক, অল্প কয়েকটা টাকার জন্যে অস্থির হয়ে গেছি। কথা সত্যি!

আমার ছোট একটা ব্যবসা আছে। আমার এই বন্ধু আমার ব্যবসার গ্রাহক হল। এবং বাকিতে। বন্ধু কথা দিল, আমার পাওনা টাকাসহ এই টাকা কাল-পরশু দিয়ে দেবে।
প্রায় বছর হয়ে গেছে। সে বড় চাকুরী করে। আমার পাওনা টাকার অংক কমেনি এবং বন্ধুপ্রবরকে ফোন দিলে সে রিসিভ করে না।

গল্প-৪
অন্য এক বন্ধু…। না, থাক। এতো গল্প শুনে কী হবে? এরকম গল্প সবার জীবনেই আছে।

(মোট পড়েছেন 767 জন, আজ 1 জন)
শর্টলিংকঃ

৩টি মন্তব্য

    1. কী সেকান্দার বক্স, কান্নাকাটি করেন কেন? 😮

মন্তব্য করুন