ওয়ার্ডপ্রেস বিষয়ক প্রাথমিক ধারণা এবং ক্যারিয়ার হিসেবে এর সম্ভাবনা

- নাজমুল আহসান

ওয়ার্ডপ্রেস কী?

বর্তমানে ব্যবহৃত সিএমএসগুলোর (কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে ওয়ার্ডপ্রেস। আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা পাওয়া এই ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারকারীদের দিয়েছে অবাধ স্বাধীনতা আর স্বাচ্ছন্দ্য। এখন পর্যন্ত বিশ্বের সেরা ১০ মিলিয়ন ওয়েবসাইটের মধ্যে ২৩.৩% ওয়েবসাইটই ওয়ার্ডপ্রেসে তৈরি! অন্য কোনো সিএমএস কিংবা ফ্রেমওয়ার্ক এর ধারেকাছেও যেতে পারেনি! অনুমান করা হয় মোটামুটি ৬০ মিলিয়ন ওয়েবসাইট তৈরিতে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহৃত হয়েছে!
ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে একজন ব্যবহারকারী কয়েক মিনিট সময় এবং অল্প কিছু অর্থ ব্যয় করেই দৃষ্টিনন্দন ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলতে পারছেন! যেটি বিকল্প পদ্ধতিতে করতে গেলে বড় বাজেটের পাশাপাশি লম্বা সময়েরও প্রয়োজন।

ওয়ার্ডপ্রেস কী দিয়ে তৈরি?

তুমুল জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ পিএইচপি এবং মাইএসকিউএল ডাটাবেজ প্রযুক্তি উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে ওয়ার্ডপ্রেস। মূলত ওয়েবে পিএইচপির প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্য ওয়ার্ডপ্রেসের জনপ্রিয়তার পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে। এই একই কারণে গড়ে উঠেছে ওয়ার্ডপ্রেসের সুবিশাল কম্যুনিটি।

কারা ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করছে?

প্রশ্নটা আসলে উল্টোভাবে বলা উচিৎ- কারা ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করছে না! ফেইসবুক, গুগল, বিবিসি, ইবে, ইএসপিএন, নকিয়া কিংবা মজিলার মত টেক-জায়ান্টরা নিজেদের কাজে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করছে। অতি সম্প্রতি এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে আপওয়ার্ক (সাবেক ওডেস্ক)!
শীর্ষস্থানীয় কিছু প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, যেখানে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহৃত হয়েছে-

বিশ্ববিখ্যাত ৪০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা পাওয়া যাবে এই লিংকে- http://www.wpbeginner.com/showcase/40-most-notable-big-name-brands-that-are-using-wordpress/

ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারের সুবিধা

ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এটি বিনামূল্যে পাওয়া যায়। এবং এর সাথে প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ সবই বলতে গেলে ফ্রি! এর রয়েছে কয়েক হাজার ফ্রি থীম, নিজের পছন্দমতো ওয়েবসাইট তৈরি এখন শুধু সময়ের ব্যাপার। আর আছে যাদুকরী প্লাগিন। সাধারণভাবে যে ফিচারগুলো ওয়ার্ডপ্রেসের নেই, কিন্তু প্রয়োজনীয়; এরকম কাজের জন্যে রয়েছে হাজারও প্লাগিন। নিজের চাহিদামত সংযুক্ত করে নিতে পারার মতো দক্ষতা থাকলেই যে কেউ কয়েক মিনিটের মধ্যে একটা পরিপূর্ণ ই-কমার্স সাইট কিংবা সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট বানাতে পারবেন!

ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপার হতে হলে

বেসিক পিএইচপি জানলেই নিজেকে ছোটখাটো ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপার হিসেবে দাড় করানো যাবে। এমনকি কোনো প্রোগ্রামিং বিষয়ক জ্ঞান ছাড়াই অনেকে নিজেকে ডেভেলপার হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। কিন্তু সত্যিকারার্থে ডেভেলপার বলতে যা বুঝায়, তার জন্যে আপনাকে অবশ্যই অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং (OOP) এবং মাইএসকিউএলে দক্ষ হতে হবে। এর পাশাপাশি ভালো ধারণা রাখতে হবে জাভাস্ক্রিপ্ট এবং সিএসএস-এর উপরে।

ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপারদের বাজার

এটা হচ্ছে মূল আগ্রহের বিষয়! বুঝলাম ওয়ার্ডপ্রেস ভালো জিনিস, কিন্তু এটা শিখে আপনি কী করবেন?
এই যে লক্ষ লক্ষ ওয়েবসাইট কিংবা ওয়েবএপ্লিকেশন তৈরি হচ্ছে ওয়ার্ডপ্রেসে, এগুলো তৈরিতে একটা বিরাট জনবল কাজ করছে। বর্তমান সময়ে আউটসোর্সিং শব্দটি যাদুর মতো হয়ে গেছে। অনেকেই পণ্ডশ্রম দিলেও, সত্যি সত্যি আউটসোর্সিং থেকে ভালো অংকের টাকা আয় করছেন অসংখ্য মানুষ। এমনকি অসংখ্য বাংলাদেশি।
স্থানীয় বাজারের কথা বাদ দিলেও, শুধু আউটসোর্সিং করে ভালো রোজগার করছেন, এমন ডেভেলপারের সংখ্যা আমাদের দেশে কম নয়। ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসগুলোতে ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপারদের জন্যে রয়েছে অসংখ্য কাজ। এবং মজার বিষয় হচ্ছে- ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপারদের ঘণ্টাপ্রতি আয় গড়ে ৫০ ডলার! এই মুহূর্তে শুধুমাত্র upwork.com-এর আছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ওয়ার্ডপ্রেস সংক্রান্ত কাজ (লিংকঃ https://www.upwork.com/o/jobs/browse/?q=wordpress)। আর ইল্যান্সে আছে ২ হাজারের মতো (লিংকঃ https://www.elance.com/r/jobs/q-wordpress)। এর বাইরে freelancer.com, guru.com সহ অন্যান্য সাইটগুলোতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কাজ পাওয়া যায়।
এদিকে দেশীয় ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে তিন চতুর্থাংশেরও বেশি ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করছে। চোখ-কান খোলা রাখলে স্থানীয় বাজারও হতে পারে একটা বড় সম্ভাবনার উৎস।

(মোট পড়েছেন 481 জন, আজ 2 জন)
শর্টলিংকঃ

৪টি মন্তব্য

  1. আবু কায়েস ভূঁইয়া Kayes Bhuiyan বলেছেন:

    ভাই অনেক উপকারি একটা পোস্ট করছেন। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

  2. Sadia Afreen বলেছেন:

    শিখতে কত দিন লাগবে? আপনি কি ট্রেনিং করান?

    1. এটা নির্ভর করবে আপনি কত দ্রুত শিখতে পারেন। আমি ট্রেনিং করাই না।

মন্তব্য করুন