চারটি (ফেইসবুক) স্ট্যাটাস

- নাজমুল আহসান

১) জীবনের প্রথম চাকুরীটা ছেড়েছি দেড় মাসের বেশি হল। এই দেড় মাসে আমার জীবনধারাটা একেবারে পাল্টে গেছে। ইচ্ছেমতো সময় কাজে লাগাতে পারছি, ইচ্ছেমতো সময় অপচয় করতে পারছি।

যখন চাকুরী করতাম, প্রায়ই মা-বাবা ফোন দিয়ে জানতে চাইত- ‘ছুটি কবে?’ এখন মন চাইলেই তাঁদের কাছে যেতে পারছি। কিংবা ঘুরতে যাচ্ছি প্রেমিকাকে নিয়ে। আমার এখন ইচ্ছেকাল!

হিসেব করে দেখলাম প্রতিদিন আগের চেয়ে মোটামুটি দুই থেকে আড়াইগুণ কাজ করছি। সেটা কাজের পরিমাণেই হোক আর টাকার অংকেই হোক। সবচেয়ে বড় ব্যাপার- নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করছি; যেটা ভালো লাগছে, করছি; নয়তো সেটা বাদ দিয়ে অন্য কিছু ধরছি। যার ফলে কাজে আর বিরক্তি আসছে না!

প্রতিদিনই নতুন নতুন জিনিস শিখছি। নতুন কিছু শেখার বিষয়টা আগেও ছিল, তবে সেটা ছিল প্রয়োজনে; এখন প্রয়োজনের বাইরেও শখের বশে বেশ কিছুটা সময় শেখার, পড়ার সুযোগ পাচ্ছি।

২) ‘বেকার’ মানুষ, তবু তো জীবন ধারণ করতে হয়। সকাল-বিকেল দুমুঠো ডাল-ভাতের জন্যে টুকটাক ফ্রিল্যান্সিং করছি। পাশাপাশি পৌনে দুই হালি ছেলেকে পড়াচ্ছি। পড়াচ্ছি বলতে, প্রোগ্রামিং শেখাচ্ছি। আমি নিজে খুব ছোটখাটো প্রোগ্রামার, চেষ্টা করছি সেখান থেকে এদেরকে কিছু দিতে।

৩) ছাত্রদের প্রোগ্রামিং শেখাতে গিয়ে একটা প্রোজেক্টরের প্রয়োজনবোধ করছিলাম। গেল সপ্তাহে হঠাৎ করেই একটা প্রোজেক্টর কিনে ফেলেছি। বেশ বড়সড় প্রোজেক্টর, স্যামসাং ব্র্যান্ডের। ছাত্র পড়াই সপ্তাহে দু’দিন, বাকি দিনগুলোতে বাসায় বসে প্রোজেক্টরে সিনেমা দেখি। বিশেষ করে অন্ধকার ঘরে থ্রিডি সিনেমা দেখার অনুভূতি প্রায় সিনেমাহলের কাছাকাছি।

৪) বাবা-মা আর প্রেমিকার প্রবল আগ্রহে মাস্টার্সে ভর্তি হতে যাচ্ছি। যদিও আমার ইচ্ছে ছিল একটু দেরি করার। ঠিক আছে, করিই না-হয় আরেকটু পড়াশুনা; ‘কী আছে জীবনে আমার!’

(মোট পড়েছেন 645 জন, আজ 1 জন)
শর্টলিংকঃ

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন