রিসিভার (পর্ব-২)

- নাজমুল আহসান

পর্ব-১ পড়তে এখানে ক্লিক করুন


একাত্তর সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি। দেশ উত্তাল। যেকোনো মুহূর্তে যুদ্ধবিগ্রহ শুরু হয়ে যেতে পারে। মানুষ মোটামুটি আতংকের মধ্যে বসবাস করছে। রেডিও খুললেই নতুন নতুন ভীতিকর খবর। বাবা-মা সারাদিন দুশ্চিন্তায় থাকে। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাওয়া নিষেধ। স্কুল শেষ হলে সোজা বাসায় যেতে হবে। কারো সাথে কথা বলা যাবে না।

জোহরের আজান হচ্ছে। শেলিদের বাসার সামনে কোমর-সমান পাঁচিল। পাঁচিলে পা ঝুলিয়ে বসে আছেন নাসের ভাই। স্কুল থেকে ফেরার পথে প্রতিদিন একই দৃশ্য দেখে শেলি। কয়েকদিন জিজ্ঞেস করেছে- ‘আপনি প্রতিদিন এখানে কী করেন?’ নাসের ভাই কিছু বলেননি। আজ হঠাৎ পাঁচিল থেকে লাফ দিয়ে নেমে শেলির সামনে এসে দাঁড়ালেন। শেলি বলল- ‘কিছু বলবেন?’
নাসের ভাই বললেন- ‘না না, কী আর বলব?’
শেলি বলল- ‘আচ্ছা, নাসের ভাই, আমি কি খুব সুন্দরী?’
নাসের ভাই একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেলেন, বললেন- ‘তা তো অবশ্যই।’
-‘আপনি কি আমাকে দেখার জন্যে এখানে বসে থাকেন?’
-‘শেলি, তোমার জন্যে একটা ভালো খবর আছে।’
-‘কী ভালো খবর?’
নাসের ভাই বললেন- ‘বাসায় যাও।’
শেলি বলল-‘বাসায় গিয়েই যদি ভালো খবর পাই, তাহলে আপনি এরকম ঘাসফড়িঙ-এর মতো লাফ দিয়ে নামলেন কেন?’

বাসায় ঢুকে শেলি যে খবরটা পেল, সেটাকে শুধু ভালো খবর বললে ভুল হবে। বাসায় টেলিফোন সংযোগ নেওয়া হয়েছে। পুরো বাসায় একটা উৎসবের আমেজ চলে এসেছে। বেলি আর বাবলু মিলে আত্মীয়স্বজনদের কার কার বাসায় টেলিফোন আছে তার লিস্টি করছে।

শেলি বৈঠকঘর থেকে বাইরে উঁকি দিল। নাসের ভাই এখনো বসে আছেন। এই উঁকি দেওয়ার কাজটা শেলি নিয়মিতই করে। প্রতিদিন ও বাসায় ঢোকার পরপরই নাসের ভাই চলে যান। শেলি বারান্দায় গিয়ে নাসের ভাইকে ডেকে বলল- ‘নাসের ভাই, আমি তো বাসায় চলে আসছি। আপনি যে এখনো যাননি!’ নাসের ভাই মুখ ঘুরিয়ে দেখলেন। পাঁচিল থেকে নেমে শেলির সামনে এসে দাঁড়ালেন, ‘শেলি, তোমার সাথে আমার কথা আছে।’
শেলি বলল- ‘আমি তো জানিই, আমার সাথে আপনার কথা আছে। বলেন।’
নাসের ভাই বললেন- ‘এখন না। রাতে ফোন দেব। নয়টায়। চাচামিয়ার কাছ থেকে তোমাদের টেলিফোন নম্বর নিয়ে নিলাম!’
-‘কখন ফোন দিবেন?’
নাসের ভাই মুচকি হেসে চলে গেলেন।
পুরো রাতটা শেলি নির্ঘুম কাঁটাল। অর্ধেকটা আনন্দে, বাকিটা দুশ্চিন্তায়।

(চলবে…)

(মোট পড়েছেন 182 জন, আজ 1 জন)
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন