বিএনপি নেত্রীর জন্মদিন প্রাসঙ্গিক কথকতা

- নাজমুল আহসান
খালেদা জিয়ার জন্মদিন

আমি কখনো বড় মানুষদের একে অন্যের সাথে তুলনা করি না। নজরুল বড় কবি নাকি রবীন্দ্র -এ জাতীয় অহেতুক তর্ক আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই অপছন্দ করি। একই সাথে চেষ্টা করি বড় মাপের মানুষদের সমালোচনা করা থেকে দূরে থাকতে।

আমার জন্ম জানুয়ারির ২১ তারিখ। মাস্টারদের গ্যাঁড়াকলে পড়ে সেটা হয়ে গেল পয়লা ডিসেম্বর! শুনলাম এরকম সবারই হয়; সবারই নাকি দুইটা করে জন্মদিন থাকে। আমি মেনে নিলাম।

এ পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপার্সনের ৪টা জন্মদিন আবিষ্কৃত হয়েছে। যেহেতু আমার মতো নাদানের ২টা জন্মদিন, যেহেতু সবারই দুইটা করে জন্মদিন থাকাটাকে মেনে নিয়েছি, সেহেতু তাঁর মতো বড় একজন মানুষের ৪টা জন্মদিন মেনে নিতে আমার কোনো আপত্তি নেই। মাত্র ৪টা কেন, তাঁর ৪০টা জন্মদিনও থাকতে পারে! যদিও এক বেরসিক তাঁর জন্মের বিষয়ে কিস্তির প্রসঙ্গ তুলে এনেছে! তাতেও আমার কিছু বলার নেই। আমার আপত্তি অন্য জায়গায়; নেত্রী তাঁর সর্বশেষ ঘোষিত জন্মদিন হিসেবে এমন একটা দিনকে বাছাই করেছেন, সেটা আপামর বাঙালির জন্যে একটা দুঃখের দিন।

বঙ্গবন্ধু কি শুধু আওয়ামীলীগের? আওয়ামীলীগ মানে কি শেখ মুজিব? বঙ্গবন্ধু পুরো বাঙালি অস্তিত্তের অংশ, অন্তত আমি সেটা মনে করি। রাজনৈতিক রেষারেষির সাথে বঙ্গবন্ধুকে গুলিয়ে ফেলা চূড়ান্ত মুর্খামি। বিএনপি চেয়ারপার্সন ঠিক সেই কাজটাই করেছেন। আওয়ামীলীগের সাথে ভালো করে ‘খেলতে’ গিয়ে তাঁর জন্মদিন বানিয়েছেন ১৫ আগস্টকে! যে ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু নিহত হয়েছেন!

বিএনপি নেত্রী বুঝতে পারেননি- আওয়ামীলীগের সাথে যে নোংরা খেলায় তিনি নেমেছেন, পুরো বাঙালি জাতি সেই খেলায় তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে গেছে। পুরো বাঙালি জাতি না হয়তো; অন্তত তারা, যারা আওয়ামীলীগ-বিএনপির ধার ধারে না। যাদের মনের মধ্যে দেশের জন্যে অকৃত্রিম ভালবাসা, যাদের বুকে বঙ্গবন্ধুর জন্যে ভালবাসার বান ডেকে যায়।

জন্মদিন

(মোট পড়েছেন 104 জন, আজ 1 জন)
শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন