আজ আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে ভিতরের ক্ষ্যাপাটা

- নাজমুল আহসান

খেলাধুলায় আমার একদম আগ্রহ নেই। নিজে তো খেলিই না; বরং খেলা দেখাতেও আগ্রহ কম। খবরের কাগজে খেলার পাতাটা নিয়মিত এড়িয়ে যাই। সেই আমি আজ ‘খেলা’র খবর পড়ে কেঁদে ফেলেছি!

আশরাফুলকে যতো উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে, আমার ধারণা এমন অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড়ের নেই। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের প্রথম সুপারস্টার এই আশার-ফুলকে মানুষ অকুণ্ঠ ভালবাসা দিয়েছে। প্রত্যাশা পূরণ না করায় যেমন কটুকথা শুনিয়েছি, তেমনি আমরা তাঁকে বুকেও টেনে নিয়েছি। এটা অবশ্যই আশরাফুল জানেন। সেই আশরাফুল দেশের ১৬ কোটি মানুষের সাথে প্রতারণা করলেন! শুধু টাকার লোভে?
হ্যা, তাঁর স্বীকারোক্তি সেটাই বলে। কিন্তু পর্দার ওপারে কি আরও কথা লুকিয়ে নেই?

আমি খুব সচেতনভাবে ভারতবিদ্বেষী। কেন ভারতবিদ্বেষী, সেটা অন্যদিন বলবো। মুদি দোকানে বলে দিয়েছি, আমাকে যেন কখনো ভুল করেও ইন্ডিয়ান পেয়াজ কিংবা ডাল না দেয়। এমনও হয়েছে- বাজারের ব্যাগ থেকে পেয়াজ বের করে ফেরত দিয়েছি। আমি কখনোই ভারতীয় কোনো কোম্পানির কলম কিংবা পেন্সিল কিনি না, আমি এয়ারটেল ব্যবহার করি না। এই বিষয়গুলো ভাবলে খুব ভালো লাগে! এটা সত্যি যে, বাংলাদেশের কঙ্কালকে গ্রাস করে ফেলা ভারতকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সম্ভব না; তবু আমি মনপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করি।

যে স্পট ফিক্সিং নিয়ে হইচই শুরু হয়েছে, এটা হওয়ারই কথা। আশরাফুল(রা) অপরাধ করেছেন, অবশ্যই অপরাধ করেছেন। শাস্তিযোগ্য অপরাধের শাস্তি আমি আশা করি। শুনলাম, ৫ বছরের জন্যে নাকি নিষিদ্ধ করা হবে। তবে, আমার মনে হয়- খেলার মাঠ, খেলার আদালতের বাইরেও প্রচলিত আদালতে দেশদ্রোহিতার শাস্তি দেওয়া উচিৎ।
আমাদের ছেলে আশরাফুলকে শাস্তি দেওয়া হবে। তারপর আমরা আবার তাঁকে বুকে টেনে নেবো। আশরাফুল আবার খেলবেন, আমরা আবার বিজয়ের আনন্দে কেঁদে ফেলবো। কিন্তু…

পিছনের কারিগরদের কী হবে? খবরে আশরাফুল(দের) নাম ছাড়া বাকি যে কয়টা নাম চোখে পড়েছে সবগুলো ভারতীয়! কেন বারবার ভারতীয়দের কাছেই? বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে ভারত কী চোখে দেখে, সেটা কি সবাই ভুলে গেল!
এই মহামান্য ভারতমাতা আমাদের কতো কী-ই না উপহার দিল! সীমান্তে নিয়মিত লাশ, দেশের অর্থনীতিতে করাল গ্রাস, রাজনৈতিক ত্রাস; কোনটা বাকি রেখেছে ভারত?
তবুও দেশি কিছু ইতর দিনের পর দিন ভারতকে নমঃনমঃ কদমবুসি করে চলেছে! এভাবে আর কতো?

আমার ফেইসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে এঁদের অনেকেই আছেন। এঁরা ভারতীয় সংস্কৃতির ভক্ত, ভারতীয় চলচিত্রের ভক্ত, সর্বোপরি ভারতের ভক্ত। আমি সহ্য করতে পারি না। হিন্দিতে স্ট্যাটাস দিতে দেখলে, হিন্দি গান-সিনেমা নিয়ে মাতামাতি করতে দেখলে অসহ্য লাগে। কিছু বলি না, আমার কিছু বলার অধিকার নেই। এটা তাঁদের ব্যক্তিগত রুচি। মানুষ তো চোরও হয়, রাজাকারও হয়; আমি বলার কে?

কিন্তু আর নয়। এই আজ থেকে, এখন থেকে যে কাউকে ভারতের পা-চাটা মনে হলে, হিন্দি বুলি আওড়াতে দেখলে সাথে সাথে ফ্রেন্ডলিস্ট থেকে বের করে দেবো। আজ আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে ভিতরের ক্ষ্যাপাটা।

 

(মোট পড়েছেন 121 জন, আজ 1 জন)
শর্টলিংকঃ